রুপকথার জ্বীন প্রেমিক – ইসরাত জাহান ইকরা

প্রবাসে
কিরে দিদিভাই এই সন্ধ্যা বেলায় ছাদে কি করছিস তাও আবার চুল ছেড়ে দিয়ে। জানিস না এই সময় কেউ ছাদে আসেনা সবকিছুর একটা সময় আছে বুঝলি।( রাহেলা বেগম)
পরি: উফফ দাদি তুমি ও না। সেই কুসংস্কার গল্প আমাকে শুনাতে এসো না প্লীজ। আচ্ছা সন্ধ্যায় চুল ছেড়ে ছাদে উঠলে কি এমন হয় শুনি।
রাহেলা বেগম: এই সময় জ্বীনদের চলাচল করার সময় আর কতো তকে বুঝাবো বল তো।
পরি: ধুর দাদি এইসব রুপকথার গল্প তে অনেক দেখেছি বাস্তবে এসব কিছুই নেই বুঝলা। আর তাছাড়া যদি এসব থেকে ও থাকে তাহলে জ্বীনের সাথে প্রেম করে এই জাহান্নাম থেকে বিদেয় হবো। আমি ও তো চাই এমন কিছুই আমার সাথে হোক এই এলোমেলো জীবন নিয়ে আর কতোদিন থাকবো বলো।( বলেই ফিক করে হেসে দিল)
রাহেলা বেগম: এমা এই সন্ধ্যা বেলায় কি অলক্ষুনে কথা বলছিস। আসলে সব দুষ আমার তর ভালোর কথা ভেবে তর বাবার আরেকটা বিয়ে দিলাম,তর ভালোর জন্য করতে গিয়ে তর জীবন টা আমি নষ্ট করে দিলাম রে দিদিভাই ( বলেই চোখ মুছল)
পরি: দাদি তুমি ও না,,,দেখি চোখ মুছো।যাও কথা দিলাম আর ছাদে আসবো না। এবার একটু হাসো( এই বলে চোখ মুছে দিল)
তখনি পিছন থেকে ইরা বেগম এসে পরির চুলের মুঠি ধরলো।
ইরা বেগম: হারামজাদি তকে কখন বললাম বাশন গুলো মাঝতে আমার অনুমতি ছাড়া ছাদে এসে গায়ে হাওয়া লাগাচ্ছিস।
পরি: মা আপনার পায়ে পড়ি আমাকে আর মারবেন না প্লীজ এমনিতে আমার শরীর ব্যাথা হয়ে আছে। আমি এখুনি সব করে দিচ্ছি( কান্না করতে করতে)
রাহেলা বেগম: কি হচ্ছে কি ছোট ব‌উ। ছাড়ো বলছি মেয়েটা কে।( রেগে)
ইরা বেগম: আপনি চুপ করুন মা আপনার আসকারা পেয়ে পেয়ে এখন কাজে ফাঁকি দিচ্ছে। আর এই যে মেয়ে আমি যাতে ৫ মিনিট এর মাঝে দেখি সব কাজ কমপ্লিট। ( এই বলে গটগট করে চলে গেল)
এদিকে পরি কান্নায় ভেঙে পড়লো,,,,,,,,
এ হলো গল্পের নায়িকা পরি। আপন বলতে দাদিই আছে আর আছে সৎ মা আর একটা ছোট ভাই। পরির জন্মের সময় ওর মা মারা যায় তাই বাধ্য হয়ে আরেকটা বিয়ে করতে হয় দুধের শিশুটির জন্য। পরির যখন ছয় বছর তখন তার বাবা সরক দুর্ঘটনায় মারা যায়। বাকিটা আস্তে আস্তে জেনে যাবেন।
আসছে……..
রুপকথার জ্বীন প্রেমিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *