ভালোবাসি যে তোমায় – ইসরাত জাহান ইকরা । পার্ট: 14

বিনোদন

ভালোবাসি যে তোমায়

– ইসরাত জাহান ইকরা

দিশা রাগে গজগজ করতে করতে ঘরে ঢুকেই সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে লাগলো।আর বলতে লাগলো। আমি বার বার এই মিষ্টির কাছে হেরে যাচ্ছি আমি কিছুতেই কিছু করতে উঠতে পারছি না। একে তো আমি দেখে নিব । এই বলে দিশা কাউকে ফোন দিল।
দিশা: হেলো মম। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল। ওই মিষ্টি আমার থেকে শুভ্র কে কেরে নিল। আমি যদি শুভ্র কে না পাই না তাহলে বলে দিচ্ছি আমি সুইসাইড করবো। ( কান্না করতে করতে)
ওপাশ থেকে: দিশা তুই এসব কি বলছিস। কি হয়েছে আমায় খুলে বল।
দিশা: মম,,, শুভ্রর সাথে মিষ্টি নামের মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে। শুভ্র তো মিষ্টি বলতে পাগল। আজ বাদে কাল ওদের গায়ে হলুদ। আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না ( চুল খামচে ধরে)
ওপাশ থেকে: বললেই হলো নাকি। তুই নিশ্চিতে থাক সব ব্যাবস্থা আমি করবো। শুভ্রর সাথে তর বিয়ে হবে।
দিশা: তুমি আমাকে নিশ্চিতে থাকতে বলছো। কালকেই তো ওদের গায়ে হলুদ,,, শুক্রবারে বিয়ে। তুমি অস্ট্রেলিয়া থেকে কি করতে পারবে। ( উত্তেজিত হয়ে)
ওপাশ থেকে: কালকের ফ্লাইটে আমি আসছি। তুই কি ভেবেছিস চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রি আমি এমনিতেই ছেড়ে দিব। খেলা তো মাত্রই শুরু । সব কথা ফোনে বলা যাবে না।
বাই দা ওয়ে তুই যা কেলেঙ্কারি করেছিস শুভ্র মিষ্টির কাছে মাফ চেয়ে ওদের সাথে ভাব জমা। নয়লে সব প্লেন ভেস্তে যাবে। ( শয়তানি হেসে)
দিশা: ওকে মম ( এই বলে ফোন কেটে দিল)। তুই কি ভেবেছিস মিষ্টি সবকিছুতেই তুই জিতে যাবি। নো নেবার এবার এমন প্লেন করবো যেটা তুই বুঝতেই পারবি না।
ড্রয়িং রুমে বসে সবাই হাসিঠাট্টা করছে তখনি আশা চৌধুরী বলে উঠলো। হয়েছে আর গল্প করতে হবে না অনেক রাত হয়ে গিয়েছে সবাই এবার ঘুমুতে যাও।
তখনি রুদ্র বলে উঠলো……..
রুদ্র: আর ঘুম। ভাইয়া তো এখন ব‌উ নিয়ে ঘুমোবে। আর আমাদের পোড়া কপাল সেই কোল বালিশ নিয়েই ঘুমোতে হবে।
আশা চৌধুরী রুদ্রর কানমলা দিয়ে বলে উঠলো কি বললি। বড্ড ফাজিল হয়ে গেছিস তাই না। তখনি ইকরা বলে উঠলো।
ইকরা: সত্যিই তো আমি তো মিষ্টি কে জরিয়ে ধরে ছাড়া ঘুমোতে পারি না। সবসময় দুই বোন একসাথে থাকতাম । এখন থেকে আমি একা কি করে থাকবো( মুড অফ করে) তখনি রুদ্র ফাজলামো করে বলে উঠলো…….
রুদ্র: আহারে কি দুঃখ। এখন থেকে আমি আর তুই জরিয়ে ধরে ঘুমাবো। কি বলিস ( বলেই চোখ মারলো)
ইকরা: কুত্তা তকে তো আমি গলা টিপে মারবো…..এই এক মিনিট এক মিনিট। এখন থেকে তাহলে শুভ্র ভাই মিষ্টি কে জরিয়ে ধরে ঘুমোবে।
এটা বলার সাথে সাথে সবাই জোরে হেসে দিল। মিষ্টির তো লজ্জায় কাঁচুমাচু করে বসে আছে এটা বলার সাথে সাথেই মিষ্টি দৌড়ে ঘরে চলে গেল।
শুভ্র মাথা চুলকাতে চুলকাতে সবার পাস কাটিয়ে ঘরে চলে গেল।
তারপর যে যার রুমে ঘুমোতে চলে গেল…………..
_________________________
সকালে…….
শুভ্র এবং মিষ্টির বিয়ে উপলক্ষে আরমান চৌধুরী আর আরিফ চৌধুরী বড় একটা কমিউনিটি সেন্টার বুক করেছে। তাই সবাই গুছগাছ করতে ব্যাস্ত তখনি শুভ্র মিষ্টিদের রুমে আসে। এসেই তাড়া দিতে লাগলো।
শুভ্র: হয়েছে আর কিছু প্যাক করতে হবে না নিচে সবাই ওয়েট করছে। আর বাকি যা যা লাগবে পরে সেগুলো কেনা যাবে। ( হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
তখনি দিশার আগমন,,,,,,,,,
শুভ্র: তুই এখানে ,,,,,,, কি জন্য এসেছিস। আর হ্যা তরা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য রেডি থাকিস। আমি এয়ার পোর্টে পৌঁছে দিব। ( অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে)
দিশা: শুভ্র I’m really sorry। আমি তকে পাওয়ার লোভে এসব করে ফেলেছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আর হ্যা আজকে মম আসছে কথা দিচ্ছি আর তদের পথে বাধা হয়ে আর দাঁড়াবো না। আমি চলে যাব তর জীবন থেকে। তাই পারলে আমায় মাফ করে দিস( নেকা কান্না করে)
শুভ্র: তর বক্তব্য শেষ হলে তুই এবার আসতে পারিস।
তারপর দিশা চলে যেতে নিলে মিষ্টি বলে উঠলো। মিষ্টি বলে উঠলো দাঁড়াও দিশা আপু।
শুভ্র বলে উঠলো মিষ্টি দিশাকে আটকিয়ো না।
ইকরা: মিষ্টি কি হচ্ছে টা কি। তর পাকামি বন্ধ কর নয়তো পরে পস্তাতে হবে।
মিষ্টি: তুই চুপ কর। আমাকে বলতে দে……..
দিশা: ( এইতো এইবার লাইনে এসেছে) না মিষ্টি আমাকে আটকিয়ো না। আমি অনেক অপরাধ করেছি তার শাস্তি আমাকে পেতে দাও।
মিষ্টি: মানুষ মাত্রই ভুল । আর তুমি যখন তোমার ভুল বুঝতে পেরেছো এটাই অনেক। আর শুনো তুমার আমার বিয়ে না খাওয়া পর্যন্ত কোথাও যাওয়া হচ্ছে না । বলে দিলাম।
দিশা: তুমি খুব ভালো মিষ্টি। কতো সহজে মানুষ কে আপন করে নিতে পারো। আর আমি কি না তোমার সাথে ছিঃ।
মিষ্টি: ধুর কি যে বলো আপু। কেউ কারো ভালোবাসার মানুষ কে হাড়াতে চায় না। তেমনি তোমার ভালোবাসাকে তুমি পেতে চেয়েছিলে। এই নিয়ে আমার তোমার প্রতি কোন রাগ নেই সতি্য বলছি। ( মুচকি হেসে) শুভ্র ভাই প্লিজ দিশা আপুকে ক্ষমা করে দিন।
শুভ্র: বেশ তুই যখন বলেছিস তাহলে তাই হবে দিশা কে এইবারের মত ক্ষমা করে দিলাম। এই বলে পাস কাটিয়ে চলে গেল।
ড্রয়িং রুমে……
আশা চৌধুরী: আপা আপনার উপর আমার অনেক অভিমান জমেছে। কতো করে বললাম আমাদের বিবাহ বার্ষিকীতে আপনাদের উপস্থিত থাকতে। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
মিরা: জানিস তো তর দুলাভাই কতো বিজি থাকে। তাই এবার শুভ্রর বিয়ের কথা শুনে ওনাকে ফেলেই চলে এসেছি। আচ্ছা ছাড় ক‌ই তর ছেলের বৌকে দেখছি না যে। আমাদের না শুনিয়েই এনগেজমেন্টটা করে ফেলেছিস।
আশা চৌধুরী: ওইতো আসছে।
মিরা: কোনটা,,,,, দুই জনের তো দেখছি এক চেহেরা।
আশা চৌধুরী: মিষ্টি এদিকে আসো । দেখো কে এসেছে।
মিষ্টি এসেই মিরাকে সালাম দিল।
মিরা: ওহ্ তুমিই তাহলে মিষ্টি। বাহ্ খুব সুন্দর তো তবে আমার দিশার মতো এতো সুন্দর না।
মিষ্টির বুঝতে বাকি নেই এটা যে দিশার মা। ওনার কথা শুনে মিষ্টির মুখটা চুপসে গেল।
তারপর তারা র‌ওনা দিল তাদের গন্তব্যে। সবার জন্য একটা করে রুম বুক করা হয়েছে। তাই তারা এসেই যে যার রুমে চলে গেল ফ্রেস হতে।
বিকেলে সবাই শপিংয়ে চলে গেল কেনাকাটা করতে। কেনাকাটা করতে করতে এক পর্যায়ে রাত হয়ে এলো ।
তারপর বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে খেয়ে দেয়ে, অনেক ক্লান্ত থাকায় যে যার রুমে ঘুমাতে গেল ।
এদিকে…….
দিশা: মম তোমার প্লেন টা কি বলো তো। কালকেই তো ওদের হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে। এর মধ্যে কি করতে পারবে তুমি। পরের দিন তো বিয়েই হয়ে যাবে।
মিরা: বিয়ে তো তর সাথেই হবে। আর বাকি রয়লো হলুদের অনুষ্ঠান। হক না তাতে তর আর আমার কি।
দিশা: হলুদের অনুষ্ঠান হবে মিষ্টির সাথে আর বিয়ে হবে আমার সাথে। সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে। আর মিষ্টি থাকতে শুভ্র আমাকে কেন বিয়ে করবে আজব। এই তুমি কি আমার সাথে ফান করছো।
মিরা: যদি মিষ্টি না থাকে তবে ( শয়তানি হাসি দিয়ে)
দিশা: মম তুমি এসব কি বলছো। তুমি ওকে মেরে ফেলার প্লেন করছো নাকি। আর যদিও ওকে তুমি সরিয়ে দেও শুভ্র আমাকে কোন বিয়ে করবে না।
মিরা: আরে ধুর। ওকে মেরে আমি জেলে যাবো নাকি। ওফফ সবকিছুতেই তর খালি প্রশ্ন। তবে শুন হলুদের অনুষ্ঠান হবে ঠিকই কিন্তু বিয়ের দিন মিষ্টি কে কিডন্যাপ করবো । তখন আরমান চৌধুরী মান সম্মানের চিন্তা করবে সেই সুযোগে তকে শুভ্রর সাথে বিয়ে দিয়ে দিবো ব্যাস। এর পর মিষ্টি কে ছেড়ে দিবো। আশা চৌধুরী ওদের মান সম্মানের চিন্তা করে শুভ্রকে দিব্বি টিব্বি দিয়ে ঠিক মানিয়ে নিবে দেখিস।
দিশা: ওফফ মা তুমি তো জিনিয়াস। ( এই বলে মিরা কে জরিয়ে ধরলো)
চলবে 💕💕💕💕

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *