ভালোবাসি যে তোমায় – ইসরাত জাহান ইকরা । পার্ট: 9

বিনোদন

ভালোবাসি যে তোমায়  – পার্ট:9

– ইসরাত জাহান ইকরা

রাতে ছাদে সবাই মিলে আড্ডা দিব আর সাথে অনেক মজার মজার গেম খেলবো কি বলিস ( ড্রয়িং রুমে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিল তখনি রুদ্র এই কথাটা বলে উঠলো)
মিষ্টি: কথাটা মন্দ বলিস নি কি বলিস ইকরা।
ইকরা: না আমি যাবো না। তোরা মজা করিস।
শুভ্র: যাবে না মানে ১০০ বার যাবে। আর বিকালে আমার এক ফ্রেন্ড আসছে নাম রোদ। সবাই বিকেলে লং ড্রাইভে যাবো তারপর রাতে ছাদে বসে জমিয়ে আড্ডা হবে সাথে থাকছে নাচ গান।
ইশা: গুড আইডিয়া। অনেক মজা হবে তাই রুদ্র।
ইকরা: ওমাগো ট্রু লাভ ( মনে মনে) । তোমারা যা ইচ্ছা করো আমি যাবো না যাবো না বললাম তো।
মিষ্টি: তুই না গেলে আমি ও যাবো না।
শুভ্র: তোরা না গেলে তো মজায় হবে না। তাহলে আমি ও যাবো না ।
দিশা: বুঝেছি শুভ্র আমাদের সাথে তুই যাবি না। ওদের জন্য কি আমাদের আনন্দ টা মাটি করবি। আর তোমাদের বলছি এতো নেকামির কি আছে । অসহ্য।
তারপর রুদ্র বলে উঠলো এখানে সবাই যাবে তারপর ইকরা বলে উঠলো…..
ইকরা: আমি যাবো না…….( মুখ ঘুরিয়ে)
রুদ্র: তুই যাবি না তর ঘাড় যাবে।
ইকরা: আমি যাবো না তাতে তর কি। তর তো কোন সমস্যা হ‌ওয়ার কথা না।
রুদ্র: আমারি সমস্যা। কারণ চাই না তর জন্য আমাদের আনন্দ মাটি হোক।
ইকরা: তোদের আনন্দ কি আমি ধরে রেখেছি। আমাকে ছাড়া তর আনন্দ তো আরো বেশি হ‌ওয়ার কথা।
রুদ্র: হ্যা ধরে রেখেছিস ই তো। তুই না গেলে খুবই ভালো হত বাট তর জন্য বাকিরা যেতে চাইছে না।
শুরু হয়ে ওদের গেল ঝগড়া। শেষ মেষ ইকরা রাজি হলো। তারপর ইকরা রেগে সেখান থেকে ঘরে চলে গেল।
রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হেসে বলতে লাগল মিস ধানিলঙ্কা তোকে রাগলে দারুন লাগে । ( মনে মনে)
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চললো তখনি কলিং বেল বেজে উঠলো। আশা চৌধুরী দড়জা খুলে দেখলো একটি ছেলে হাতে মিষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখনি আশা চৌধুরী বলে উঠলো রোদ কেমন আছো বাবা।
রোদ: জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো আংটি আপনি কেমন আছেন।
আশা চৌধুরী: আলহামদুলিল্লাহ। ভিতরে আসো। এই বলে রোদ ভিতরে গিয়ে সোফায় বসলো।
রোদ: শুভ্র কোথায় ওকে দেখছি না যে।
আশা চৌধুরী: শুভ্র শাওয়ার নিতে গেছে এসে পড়বে এখুনি। তোমার বাবা মা কেমন আছে। তাদের নিয়ে আসলে খুশি হতাম।
রোদ: জ্বী খুব ভালো আছে। আর আব্বু আম্মু বলেছে আপনাদের বিবাহ বার্ষিকীর দিন আসবে।
তখনি ইকরা মিষ্টি কথা বলতে বলতে নিচে নামছে।আশা চৌধুরী ওদের ডাক দেয়।
ইকরা_মিষ্টি: হ্যাঁ বলো জেঠিমা।
আশা চৌধুরী: এ হলো রোদ তোমার জেঠার বন্ধুর ছেলে। শুভ্রর বেষ্টফ্রেন্ড। আর রোদ এ হলো আমার দুই মেয়ে। বিনিময়ে রোদ মুচকি হাসলো।
আশা চৌধুরী: ইকরা রোদের জন্য জল মিষ্টি নিয়ে আইতো। আর মিষ্টি তুই রোদের সাথে গল্প কর ইকরা এসে পড়লে শুভ্র কে গিয়ে বলে আসিস যে রোদ এসেছে। আমি এখন যাই আমার কাজ আছে এই বলে আশা চৌধুরী চলে গেল।
রোদ: আপনার নাম মিষ্টি?
মিষ্টি: জ্বী আমার নাম‌ই মিষ্টি।
রোদ: কেমন আছেন ভাবী ।
মিষ্টি: জ্বী ভালো,,,,,হ্যা কি কে ভাবী ( হকচকিয়ে)
রোদ: কে আবার আপনি। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড শুভ্রর ব‌উ আমার তো ভাবী হয় তাই না। ( মুচকি হেসে)
তখনি ইকরা জল মিষ্টি নিয়ে হাজির।
মিষ্টি: আমি আসছি ( লাজুক হেসে) এই বলে শুভ্রর ঘরের দিকে রওনা দিল।
ইকরা এসে রোদের সামনে মিষ্টি আর পানি রাখলো । তারপর রোদ বলে উঠলো মিস আপনি কি দাঁড়িয়েই থাকবেন?
তারপর ইকরা মুচকি হেসে বসলো। এদিকে রোদ ইকরার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। আর ইকরা রুদ্রকে এক বার দেখার জন্য ছটফট করছে।
এদিকে মিষ্টি এক বুক সাহস নিয়ে শুভ্রর ঘরে গেল । গিয়ে সাথে সাথে দিল এক চিৎকার শুভ্র তারাতাড়ি মিষ্টির মুখ চেপে ধরলো।
শুভ্র: কি ব্যাপার এভাবে গরুর মতো চিৎকার দিচ্ছিস কেন। মিষ্টি শুধু উম উম করছে।
শুভ্র: বোবা হয়ে গেছিস নাকি এভাবে উম উম করছিস কেন। তারপর মিষ্টি শুভ্রর হাতের দিকে ইশারা করলো। সাথে সাথে শুভ্র মিষ্টির মুখ ছেড়ে দিল। ছেড়ে দেওয়া মাত্রই যেই আবার চিৎকার দিতে যাবে ওমনি শুভ্র মিষ্টির ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নিল। প্রায় ৫ মিনিট পর ছেড়ে দিল। মিষ্টি ছাড়া পাওয়া মাত্রয় হাঁপাতে শুরু করল । শুভ্র বললো,,,,, এবার বল বার বার এভাবে চিৎকার দিচ্ছিলি কেন।
তারপর মিষ্টি শুভ্রর শরীরের দিকে ইশারা করলো। এইবার শুভ্র বুঝতে পারছে মিষ্টির চিৎকার দেওয়ার কারণ টা কি । শুভ্র গোসল করে শুধু তোয়াল পড়েই বেরিয়ে ছিল তখনি মিষ্টি শুভ্র কে খালি গায়ে দেখে চিৎকার দিল। এবার শুভ্র বলে উঠলো আচ্ছা তাহলে এই ব্যাপার এই বলে শুভ্র মিষ্টি কে এক টানে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল।
মিষ্টি: কি করছেন ছাড়ুন বলছি কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
শুভ্র: যা খুশি হোক। এতটুকু দেখেই লজ্জা পাচ্ছিস তাহলে বাসর ঘরে কি করবি হুম। বলেই গালে টুক করে কিস করলো।
মিষ্টি: ছি কি করছেন। অসভ্য ছাড়ুন নয়লে খারাপ হয়ে যাবে। এই বলে মিষ্টি শুভ্রর গলায় কামড় দিল।
শুভ্র: তুই কি ভেবেছিস তর ওই দুধের দাঁতে কামড়ে দিলেই আমি তকে ছেড়ে দিব। দাঁড়া অসভ্যতামি কাকে বলে দেখাচ্ছি তখনি দিশার আগমন।
দিশা: শুভ্র তুই…… (এই বলে শুভ্র আর মিষ্টি কে এই অবস্থায় দেখে ফেলে) ওহ্ সরি আসলে আমি বুঝতে পারিনি ( পেছনে ঘুরে)
শুভ্র আর মিষ্টি দিশাকে দেখেই দূরে সরে দাঁড়ায়। এদিকে মিষ্টির লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে। তারপর শুভ্র দিশা কে বলে উঠলো।
শুভ্র: আসার আগে তোর নক করার দরকার ছিল। বাই দা ওয়ে কি জন্য এসেছিস বল।
দিশা: আসলে তর ফ্রেন্ড রোদ এসেছে তাই তকে বলতে এলাম।( মিষ্টির দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
শুভ্র: আচ্ছা আমি যাচ্ছি। এই বলে শুভ্র কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। এদিকে দিশা মিষ্টি কে একা পেয়ে হাত টেনে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে দিল এক চড়।
মিষ্টি ছলছল চোখে দিশার দিকে তাকিয়ে রয়লো।
দিশা: তোমার সাহস কি করে হয় শুভ্রর এতোটা কাছে যাওয়ার । ছি তোমার লজ্জা করে না শুভ্রর ছোট বোন হয়ে ওর সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখো। একজন পুরুষ কে কিভাবে নিজের শরির দেখিয়ে বসে আনতে পারে তা তোমার মতো মেয়েরা ভালো করেই যানে। এই বলে দিশা গটগট করে চলে গেল। দিশা ভেবেছিল মিষ্টি কে বুঝিয়ে শুভ্রর জীবন থেকে বের করে দিবে কিন্তু শুভ্রর সাথে মিষ্টি কে এভাবে দেখে রাগ কন্ট্রোল করতে পারলো না।
এদিকে মিষ্টির চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে।
আরেকদিকে……..
সবাই রেডি হয়ে ড্রয়িং রুমে বসে আছে ইশা বার বার আয়না দিয়ে মেকআপ ঠিক করছে। তখনি শুভ্র ঘড়ি ঠিক করতে করতে সিরি দিয়ে নামছে। শুভ্র কে অসম্ভব সুন্দর দেখালে ও অনেকেই শুভ্র কে দেখে হাসছে দিশা তা দেখে রাগে ফুঁসছে। শুভ্র নেমেই সবাইকে উদ্দেশ্য করে জিগ্যেস করছে কি ব্যাপার এভাবে হাসছিস কেন।
তখনি রোদ বলে উঠলো ভাই ভাবীর আদর কি একটু বেশি হয়ে গেছিল গলায় কামড়ের দাগ দেখিয়ে আমাদের সিঙেলদের মনে কষ্ট না ও দিতে পারতিস। (হাসতে হাসতে)
শুভ্র মাথা চুলকে বলে উঠলো শালা এটা লাভ বাইট তোরা বুঝবি না। পাশ থেকে রুদ্র বলে উঠলো আজ আমাদের লাভ বাইট দেওয়ার ‌ব‌উ নাই বলে। এটা শুনার সাথে সাথে সবাই হেসে দিল। তখনি মিষ্টি আর ইকরা সিরি দিয়ে নামছি লো। তাদের দেখেই দিশা আর ইশার শরির জ্বলে উঠলো। মিষ্টি আজ নীল রঙের গাউন এক সাইডে ওড়না কানে ঝুমকা পরতে পরতে সিরি দিয়ে নামছিল। আর ইকরা কালো রঙের গাউন। চুল ঠিক করতে করতে আসছিল যত বার‌ই ঠিক করছিল তত বারই বাতাসে এলোমেলো করে দিচ্ছিল।
শুভ্র মিষ্টির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। আর রোদ হা করে ইকরার দিকে তাকিয়ে আছে। রুদ্র রোদের ইকরার দিকে তাকিয়ে থাকাটা লখ্য করলো । তা দেখে রুদ্রের রাগে ফর্সা মুখ লাল হয়ে গেল।
তারপর তারা র‌ওনা দিল লং ড্রাইভে……….আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এসেই যে যার ঘরে ফ্রেস হতে গেল। আর বাড়ির সার্ভেটদের বলে গেল ছাদে ভালো করে সবকিছু পরিপাটি করে দিতে।
চলবে 💕💕💕

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *