ভালোবাসি যে তোমায় – ইসরাত জাহান ইকরা । পার্ট: 8

বিনোদন

ভালোবাসি যে তোমায়  – পার্ট:8

– ইসরাত জাহান ইকরা

সরি সরি কোথাও ব্যাথা পাও নি তো। তা কখন এলে (রুদ্র) তারপর ইশা বলে উঠলো it’s okay….এক সেকেন্ড তুমি রুদ্র রাইট।
রুদ্র: এ বাবা এর মধ্যেই ভুলে গেলে। আমিই ওয়ান এন্ড ওনলি রুদ্র চৌধুরী ( কিছুটা ভাব নিয়ে)
ইশা: জ্বী না আমি সবাইকে ভুলে গেলে ও তোমায় কখনো ভুলতে পারবো না। আগের থেকে অনেক টা হ্যান্ডসাম হয়ে গেছ।
ইকরা: বাপরে এই মেয়ে বলে কি,,,,এ আবার রুদ্রর প্রেমে টেমে পড়লো না তো। তাতে আমার কি ( মনে মনে)
তারপর রুদ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইকরা বলে উঠলো এই রুদ্র চল এখান থেকে ওখানে ফুল দিয়ে সাজাতে হবে চল বলছি এই বলে রুদ্র কে টানা শুরু করলো। পাশ থেকে ইশা বলে উঠলো……..
ইশা: এই মেয়ে তুমি যাও রুদ্র আমার সাথে যাবে। এই এক মিনিট এক মিনিট তুমার নাম মিষ্টি তাইনা।
ইকরা: না কেন বলোতো। তুমি আমার বোন কে কি করে চিন।
ইশা: তোমার বোনের নাম কতো শুনেছি,, শুভ্র ভাইয়া সবসময় তোমাদের কথা বলতো।
পাশ থেকে রুদ্র বলে উঠলো ওহ হ্যা তোমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি ইশা এ হলো ইকরা ওরা যমজ বোন (ইকরা+ মিষ্টি) আমার কাকায়ের দুই মেয়ে।
ইকরা: এই যে ওয়ান এন্ড ওনলি মিস্টার ছাগল। তোমার পরিচয় পর্ব শেষ হলে এবার চলো।
ইশা: না রুদ্র যাবে না তুমি তোমার কাজে যাও। এই বলে রুদ্রর হাত ধরে নিয়ে গেল ইশা। রুদ্র যাওয়ার আগে ইকরার জ্বেলাস হ‌ওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো।
ইকরা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ঘরের উদ্দেশ্য যেতে লাগলো।
এইদিকে……..
দিশা: মে আই কাম ইন।
মিষ্টি: ইয়েস কাম….. আরে আপু আপনি ।
দিশা: কেন আসতে পারি না,,,,বাই দা ওয়ে তুমিই কি মিষ্টি।
মিষ্টি: জ্বী আপু,,,,, কেন বলুন তো?
দিশা: যেই পরিমানে শুভ্রর মুখ থেকে তোমার কথা শুনলাম,,,, তাই অস্ট্রেলিয়া থেকে দেখতে এলাম তুমি আমার থেকে সুন্দরী কি না।
মিষ্টি: মানে…. আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম।
দিশা: শুনলাম তোমারা দুই বোন নাকি ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী। তাই আশা করি মানে টা খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে।
আচ্ছা বাদ দেও শুনলাম তুমি নাকি শুভ্রর কাকাতো বোন তা বোন হয়ে বোনের মতো থাকতো?
মিষ্টি কিছু বলতে নিবে তার আগেই দড়জার ওপাশ থেকে শুভ্র বলে উঠলো বোন না বল ব‌উ। শুভ্র প্যান্টের দুই পকেটে হাত গুজে দড়জার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে।
দিশা: আরে শুভ্র তুই কখন এলি। আসলে মিষ্টির সাথে আড্ডা দিতে চলে এলাম ( ঘাবড়ে গিয়ে)
শুভ্র: আচ্ছা ঠিক আছে। অনেক টা জার্নি করে এসেছিস নিশ্চয় খিদে পেয়েছে আম্মু তকে খেতে ডাকছে।
দিশা: আচ্ছা যাচ্ছি। ( আল্লাহ বড় বাঁচা বেঁচে গেলাম কিছুই শুনেনি তাহলে মনে মনে) দিশা চলে যেতেই শুভ্র দড়জা বন্ধ করে দিল। সাথে সাথে মিষ্টির বুক ধুকপুক করতে লাগলো।
মিষ্টি: একি করছেন শুভ্র ভাই দড়জা আটকাচ্ছেন কেন ( মিনমিন করে)
শুভ্র: কালকে রাতের কথা কি ভুলে গেছেন মিস মাহিয়া মাসফি মিষ্টি। কাল তো কোন রকম বেঁচে গেলেন এইবার এর সুদে আসলে নিব। এই বলে যেই এগুতে নিবে এমনি ইকরা এসে হাজির।
ইকরা: এই মিষ্টি পেতনির চাচী,,,,,মাঝ দুপুরে দরজা কেউ আটকায় খুল বলছি এই বলে জোরে জোরে লাথি মারতে লাগলো দরজায়।
শুভ্র: হায় আল্লাহ আমার কপালে কি রোমান্স নামক জিনিস টা রাখলে না।
মিষ্টি এবার জোরে হেসে দিল,,,,, পরে দেখে নিব এই বলে শুভ্র দরজা খুলে চলে গেল।
ইকরা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল শুভ্রর যাওয়ার দিকে। এমনিতেই রুদ্রর জন্য অনেক রাগ লাগছে তার উপর রুদ্র ইশাকের পেয়ে সকাল থেকে ইকরার সাথে আর দেখায় হয়নি। একবার পেয়ে নিই তকে রুদ্রর বাচ্চা তর হাল আমি নাজেহাল করে ছাড়বো। এসব বিরবির করতে করতে ভিতরে ঢুকছে ইকরা। তখন মিষ্টি বলে উঠলো………
মিষ্টি: শাকচুন্নী কি বিরবির করছিস আর তাছাড়া তর মুখ আজ পেঁচার মতো করে রেখেছিস কেন।
ইকরা কিছু বলতে নিবে তখনি বিছানায় একটা আংটির উপর চোখ যায়। ইকরা মিষ্টি কে উদ্দেশ্য করে বললো এই আংটি টা কার। দেখে তো অনেক দামি মনে হচ্ছে।
মিষ্টি: আরে এটা তো দিশা আপুর আংটি। এটা তো ওনার হাতেই দেখেছিলাম।
ইকরা:: মানে দিশা আপু এখানে কেন এসেছিল।
মিষ্টি: কি জানি! এসেই কি রকম অদ্ভুত কথা বলছিল।
ইকরা: অদ্ভুত কথা মানে কি বলছিল?
(তারপর মিষ্টি সব কথা খুলে বললো)
ইকরা: মিষ্টি তুই দেড়ি করিস না শুভ্র ভাইকে যত তাড়াতাড়ি পারিস তর মনের কথা বলে দে। সময় কিন্তু কারো জন্য বসে থাকে না।
মিষ্টি: তকে বললাম কি আর তুই বলছিস কি। এসবের সাথে দিশা আপুর কি সম্পর্ক?
ইকরা: ওহ্ আল্লাহ তর মতো গাঁধী আমি আর দুটো দেখি নাই। এটা ও বুঝিস না দিশা আপু শুভ্র ভাইকে ভালোবাসে ।শুধু বেষ্ট ফ্রেন্ড টিকে থাকবে না এই ভয়ে কিছু বলছে না।
মিষ্টি: তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু তর মুখ অফ কেন এটা তো বল।
ইকরা এবার ভ্যা ভ্যা করে কান্না করে দিল। ইকরা বলতে লাগলো আর বলিস না ওই পিসাচিনির দিশার বোন,,,, চিপকালি ইশা এসে রুদ্র কে নিয়ে গেছে।
তারপর ইকরা সকালে যা যা ঘটলো সব খুলে বললো।
মিষ্টি: ওহ্ আচ্ছা এই ব্যাপার,,,,তাতে তর রাগ হ‌ওয়ার চেয়ে বরং খুশি হ‌ওয়ার কথা আর তকে রুদ্রর জ্বালানি সহ্য করতে হবে না। ( পেট চেপে হাসতে হাসতে)
ইকরা: কি জানি ওর জ্বালানিই তো আমি বেশি মিস করি। আমি চাই ও আমাকে আরো জ্বালাক তবুও অন্য কারো সাথে না থাকুক। ( ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কথাগুলো গুলো বললো)
মিষ্টি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে,,,, তাহলে তর মতো মেয়ে প্রেমে ও পড়তে পারে।
ইকরা: তর সাথে কথা বলাটাই বৃথা। ধুর
দুপুরে খাবার টেবিলে……
ইকরা কিছুতেই খাচ্ছে না শুধু বার বার রুদ্র আর ইশার দিকে তাকাচ্ছে। ইশা আর রুদ্র খাবার টেবিলে ও কথা বলছে বলতে গেলে অনেকটাই ফ্রেন্ডলি হয়ে গেছে । এখন রুদ্র ইকরার দিকে তাকানোর ও সময় পাচ্ছে না।
তখন আশা চৌধুরী ইকরার দিকে তাকিয়ে বলছে
আশা চৌধুরী: ইকরা মা খাচ্ছিস না কেন। কোন কারনে মন খারাপ।
ইকরা : আমার খেতে ভালো লাগছে না জেঠি মা।
আশা চৌধুরী: ওমা সে কি কথা। কেন রান্না ভালো হয় নি। নাকি শরির খারাপ
ইকরা : তেমন কিছুই না আর রান্না টা ও খুব ভালো হয়েছে। গন্ধে আর দেখে পেট ভয়েই গেছে ( রুদ্রর দিকে তাকিয়ে)
আশা চৌধুরী: বুঝেছি। দে দেখি আমি খাইয়ে দেই। নে হা কর। এই বলে জোর করে খাইয়ে দিল ইকরা কে।
রাতে………….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *