ভালোবাসি যে তোমায় – ইসরাত জাহান ইকরা । পার্ট: 6-7

বিনোদন

ভালোবাসি যে তোমায়  – পার্ট: 6-7

– ইসরাত জাহান ইকরা

রাতে সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে ……… ইকরা মিষ্টি তার জেঠির কোলে মাথা রেখে গল্প শুনছে। তখনি সিরি দিয়ে তূর্য আর শুভ্র নামছে। শুভ্রর একটা কল আসায় বাইরে চলে গেল। তূর্য সোফায় বসতে বসতে ইকরা কে খুঁচা মেরে বলে উঠলো ইসসস রাজরানীর মতো শুয়ে শুয়ে গল্প শুনছে। আসলে তো রাজরানী না হয়লো গিয়ে একটা চাকরানী। ইকরা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আবার গল্প শুনায় মনযোগ দিল।
তখন আশা চৌধুরী রুদ্র কে কানমলা দিয়ে বললো কি বললি আমার মেয়েকে। তারপর রুদ্র বলে উঠলো আহ মা লাগছে ,,,,,,, তারপর ইকরা বলে উঠলো বেশ হয়েছে আরো আমার সাথে লাগতে আসবি । তারপর আয়েশা চৌধুরী ( ইকরা_মিষ্টির মা) বলে উঠলো ভাবী ছেড়ে দিন না ছেলে মানুষ একটু দুষ্টুমি করবেই । রুদ্র আয় তো তর মাথায় আমি বিলি কেটে দেই তখন রুদ্র আয়েশা চৌধুরীর কোলে মাথা রাখে। তারপর রুদ্র আয়েশা চৌধুরীকে বলে উঠলো কাকিয়া তোমার কোলে কত শান্তি একেবারে ঘুম চলে আসলো।
বিনিময়ে আয়েশা চৌধুরী মুচকি হাসলো।
তখনি শুভ্র আসলো এসেই আশা চৌধুরী কে উদ্দেশ্য করে বললো মা কালকে আমার এয়ার পোর্টে যেতে হবে।
আশা চৌধুরী: (উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করল) এয়ার পোর্টে যাবি মানে।
শুভ্র: ও হ্যা কালকে আংঙ্কেল আন্টি আসতে পারবে না শুধু দিশা আর ইশা আসবে বললো। আঙ্কেল বললো একেবারে নাকি তোমাদের বিবাহ বার্ষিকীর দিন
আসবে।
আশা চৌধুরী: মানে কি দুই দিন বাদেই বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান,,,,,,,আর তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে আসতে তো প্রায় অনেক টা দেরি হবে। আমি আর ভাবতে পারছি না আমাকে একটু ফোন টা ধরিয়ে দে তো।
তারপর শুভ্র ফোন দিল……….
আশা চৌধুরী: হেলো আপা,,,,,এসব আমি কি শুনছি দুদিন বাদেই বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান সেখানে আপনারা উপস্থিত থাকতে পারবেন না এটা কোন কথা। যেদিন শুভ্র অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছিল সেদিন ই আপনাদের কে ওর সাথে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ঐদিন একটা অজুহাত দিয়ে বললেন তখন আসতে পারবেন না। এখন আর আমি কিচ্ছুটি শুনতে চাই না। কালকে দুলাভাই কে নিয়ে আসবেন ব্যাস এটাই আমার শেষ কথা।
ওপাশ থেকে: দেখ বোন তর দুলাভাই একটা মিটিংয়ে আটকে গেছে এখন আসা সম্ভব না। আর তাছাড়া আমার দুই মেয়েকে তো কাল পাঠিয়ে দিচ্ছি । এমন তো নয় আমরা আসবো না । এবার এসে অনেক দিন থেকে যাবো কথা দিলাম।
আশা চৌধুরী: যা ভালো বুঝিস তাই কর। আচ্ছা রাখি আল্লাহ হাফেজ ( মন খারাপ করে)
ওপাশ থেকে: আল্লাহ হাফেজ।
তখনি ইকরা_মিষ্টি বলে উঠলো আচ্ছা জেঠি এরা কে…….. তখন আশা চৌধুরী বলে উঠলো এখন যার সাথে কথা বললাম এটা হলো আমার বোন । মেয়ে জামাই নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থাকে তাদের দুই মেয়ে হলো দিশা আর ইশা । দিশা আর শুভ্র সমবয়সী ওরা একসাথেই পড়াশোনা করতো এবার শুভ্রর সাথেই পোড়াশোনা কমপ্লিট করলো। আর ইশা তো তদের সাথেই এবার H.S.C পরিক্ষা দিল।
তখনি আরমান চৌধুরী( শুভ্রর বাবা),,,, আর আরিফ চৌধুরী( মিষ্টির বাবা),,,, এসে তাদের সাথে আড্ডায় যোগ দিলো। আরমান চৌধুরী বললো আমাদের বাদ দিয়ে কি গল্প হচ্ছে তখনি রুদ্র বলে উঠলো আর বলো না বাবা। আমাদের বাড়িতে একটা শাকচুন্নী আছে সেই শাকচুন্নীকেই আম্মু রূপকথার শাকচুন্নী গল্প শুনাচ্ছে। এই বলে ইকরাকে চোখ মারলো। ইকরা বুঝতে পারলো এটা ইকরা কেই মিন করে বলেছে। তখন ইকরা রেগে রুদ্র কে বলে উঠলো………
ইকরা ; আমি দোয়া করি যাতে তর কপালে একটা শাকচুন্নী ব‌উ জুটে। তারপর সেই শাকচুন্নী যাতে তর ঘাড় মটকায় ।
রুদ্র: এটা তো পোড়াই তর মতো বর্ণনা দিলি। এতো ঘুড়িয়ে পেঁচিয়ে বলার দরকার কি সোজা সাপটা বললেই তো পারিস আমি তর বৌ হতে চাই। অবশ্য আমার মতো হাজব্যান্ড পাওয়া তর মতো পেতনির ভাগ্যের ব্যাপার।
ইকরা; কুত্তা হারামি দূরে গিয়া মর যা।
এদের কান্ড দেখে উপস্থিত সবাই জোরে হেসে দিল।
তারপর আশা চৌধুরী বলে উঠলো হয়েছে আর ঝগড়া করতে হবে না রাত তো কম হয়নি চলো এবার খেতে দিই।
ডিনার টেবিলে………..
শুভ্রর মুখোমুখি মিষ্টি আর আরমান চৌধুরী খেতে বসেছেন । এবং শুভ্রর পাশে রুদ্র বসেছে আর ইকরা রুদ্রের মুখোমুখি বসেছে………..
ইকরাকে আয়েশা চৌধুরী খাইয়ে দিচ্ছে আর আশা চৌধুরী সবার পাতে পাতে খাবার বেড়ে দিচ্ছেন।
আজ মিষ্টির মুড অফ কিন্তু কেন ,জানা নেই শুভ্রর । শুভ্র আজ বার বার মিষ্টির দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু মিষ্টি শুভ্রর দিকে একবার তাকিয়ে আবার খাওয়াই মনযোগ দিল মিষ্টি। অন্যদিন বার বার তাকাতো মিষ্টি কিন্তু আজ মিষ্টির কি হলো জানা নেই শুভ্রর। শুভ্র এবার না পেরে মিষ্টির পায়ে শিরশিরি দিতে লাগলো। মিষ্টি শুভ্রর দিকে তাকাতেই চোখে মারলো শুভ্র।
মিষ্টি এবার চোখে ইশারা করলো পা সরাতে। শুভ্র ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আরো বেশি করে শিরশির দিতে লাগলো। এবার মিষ্টি না পেরে চেয়ারের উপর পা গুটিয়ে নিল। শুভ্র এবার পা দিয়ে এদিক সেদিক খুঁজছে তারপর শুভ্র এক জোড়া পা পেয়ে গেল আর মনে মনে বলতে লাগলো সেই তো তোমার পা পেয়ে গেলাম সরিয়ে লাভ কি হলো তবে এইবার পা দুটো এতো বড় লাগছে কেন। আগের থেকেও খসখসে লাগছে ব্যাপার কি। যাই হোক সরিয়ে নেওয়ার জন্য এবার চিমটি খা এই বলে জোরে একটা চিমটি দিলো
আর সাথে সাথে আরমান চৌধুরী চিৎকার করে উঠলো। আর বলতে লাগলো কে রে আমার পায়ে চিমটি দিল। এটা বলার সাথে সাথে সবাই টেবিলের নিচে তাকালো কিন্তু কিছু দেখতে পেলো না এদিকে শুভ্রর গালায় খাবার আটকে গেছে । শুভ্র কোনরকম খেয়ে খাবার টেবিলে ছেড়ে ঘরের উদ্দেশ্য দৌড়ে পালালো।
এইদিকে মিষ্টি কে থামায় কে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়া অবস্থা। কেউ বিষয় টা না বুঝতে পারলে ও ইকরা বুঝতে পেরেছে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে ঘুমাতে চলে গেল………..
কিছুতেই ঘুম আসছে না শুভ্রর। শুধু মিষ্টির কথা মনে পড়ছে,,,,,,, মিষ্টি এইরকম বিহেভ করছে কেন তাহলে কি মিষ্টি কোনো কারণে শুভ্রকে ভুল বুঝছে। নাহ বিষয় টা কি দেখতে হচ্ছে। এই বলে মাঝরাতে ডুবলিকেট চাবি নিয়ে রোওনা দিল মিষ্টির ঘরের উদ্দেশ্য।
শুভ্র মিষ্টির ঘরে পা টিপে টিপে ঢুকছে । ঢুকেই মিষ্টি কে কোলে তুলে নিলো। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো আরেক জায়গায় এটা মিষ্টি নাকি ইকরা বুঝতে পারছে না শুভ্র। এ আবার কোন মহা ঝামেলায় পড়লো,,,,,,, তখনি পিছন থেকে ইকরা বলে উঠলো । এই যে মিস্টার যিজু আপনি আপনার সঠিক প্রেমিকাকেই বেঁচে নিয়েছেন এই বলে মুখ টিপে হাসছে ইকরা। শুভ্র মুচকি হেসে ইকরা কে ধন্যবাদ শালিকা বলে চলে গেল।
এইদিকে মিষ্টির মনে হচ্ছে সে হাওয়াই ভাসছে । তারপর মিষ্টি চোখ খুলে দেখলো শুভ্র তাকে পাজকোল করে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। এবার মিষ্টি শুভ্রর কোলে ছটফট করতে লাগলো আর বলতে লাগলো কি করছেন শুভ্র ভাই এই মাঝরাতে আমায় কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন।
শুভ্র: কোথায় নিয়ে যাচ্ছি গেলেই দেখতে পাবি । আর তর মুখ থেকে যদি আর একটু টু শব্দটি শুনি তাহলে ফেলে দিব বলে দিলাম।
( মিষ্টি ভয়ে চুপসে গেল )
তারপর শুভ্র মিষ্টি কে ছাদে নিয়ে কোল থেকে নামিয়ে দিল।
মিষ্টি: আপনাকে কি ভুতে ধরেছে এই মাঝরাতে আমায় ছাদে নিয়ে এসেছেন কেন।
শুভ্র: হ্যা ভুতে ধরেছে । মিষ্টি নামের একজন ভুতে ধরেছে। আমার আরামের ঘুম হারাম করে নিজে শান্তি তে ঘুমুচ্ছিস তাই না।
মিষ্টি: আপনার ঘুম হারাম করতে আমার বয়েই গেছে। বাই দ্যা ওয়ে আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন আগে সেটা বলুন।
শুভ্র: চুমু খেতে নিয়ে এসেছি ( দুষ্টু হেসে)
মিষ্টি: চুমু খেতে মানে ।
শুভ্র: ওহ্ তুই তো আবার সহজে মানে টা বুঝিস না। দাঁড়া দেখাচ্ছি। এই বলে মিষ্টির দিকে এগুতে লাগলো শুভ্র।
মিষ্টি: হায় আল্লাহ এই বদ ছেলেটা দেখছি আমার দিকেই এগিয়ে আসছে ( মনে মনে)। এদিকে শুভ্র মিষ্টির একেবারে কাছে চলে এসেছে মিষ্টি এবার চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে । মিষ্টি কে অবাক করে দিয়ে শুভ্র দুহাত দিয়ে মিষ্টির গাল উঁচু করে ধরে জিজ্ঞেস করছে মিষ্টি তুই কি আমার উপর কোন কারণে রেগে আছিস।
মিষ্টি: না আমি রেগে নেই। আমি কে আপনার উপর রাগ করার।
শুভ্র: যদি রাগ না করেই থাকিস তাহলে আমার সাথে এমন বিহেভ করছিস কেন। প্লীজ মিষ্টি আমার কাছ থেকে তুই কিছু লুকিয়ে রাখিস না।
মিষ্টি: আচ্ছা আপনার ফোনের ওয়েলপেপারে যে মেয়েটি কে জরিয়ে ধরে পিক তুলেছেন সে কে। আগে এটা বলুন তো।
শুভ্র মিষ্টির কথায় হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে। তারপর শুভ্র বলে উঠলো ওহ্ আচ্ছা এর জন্য‌ই ম্যাডামের মুড অফ। তাহলে শুন এটা হলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড দিশা । এই তো আমার আম্মুর বোনের মেয়ে কাল তো আসছেই। আমি যদিন অস্ট্রেলিয়া থেকে আসছিলাম সেদিন ওর ইচ্ছে হলো আমার সাথে এভাবে পিক তুলবে বোন হিসেবে এটুকু আবদার করতেই পারে তাই না। এই শুনে মিষ্টির মন খুশিতে গদগদ করছে।
মিষ্টির মন এতোটাই খুশি লাগছিল যে হঠাৎ শুভ্রর গালে হুট করেই চুমু খেয়ে বসে। মিষ্টি এমন কাজে নিজেই বোকা বনে যায় সাথে লজ্জায় কান দিয়ে লাল নীল ধুয়া বের হচ্ছে।
লজ্জায় মিষ্টি সেখানে আর এক মূহুর্ত দাঁড়াতে পারছে না । যেই দৌড় দিবে ওমনি শুভ্র মিষ্টির হাত খপ করে ধরে এক টানে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। তারপর শুভ্র বলে উঠলো,,,,এই তর দেখছি সাহস বেড়ে গেছে দেখছি ।
মিষ্টি: আমার সাহস বরাবরই একটু বেশি বাট আমি কারো সামনে প্রকাশ করি না। এবার আমাকে ছাড়েন,,,, যেভাবে জরিয়ে ধরেছেন এবার আমার দম বন্ধ হয়ে এলো বলে।
শুভ্র: বললেই হলো নাকি এমন এমনি ছাড়ছি না। প্রথমত আমাকে অকারণে ভুল বুঝা দ্বিতীয়ত আমার গালে চুমু খাওয়া এর ডাবল শাস্তি পাবি। এই বলে মিষ্টির ঠোঁটের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে ছাদের গেটের কাছ থেকে রুদ্র বলে উঠলো ভাইয়া আমরা কিন্তু কিছুই দেখছি না,,,,,, চালিয়ে যাও মেরি ভাই।
পাশ থেকে ইকরা বলে উঠলো শালা চামচিকা বাদড় দিলি তো ওদের রোমান্স টা বিগড়ে তকে কোন দুঃখে যে বলতে গেলাম। ধুর
রুদ্র: যেভাবে তুই ডেব ডেড করে তাকিয়ে ছিলি যদি ভুল করে আমার গালে ও চুমু খেয়ে বসে থাকিস সেই ভয়েই তো মুখ ফুসকে বেরিয়ে গেছে।
ইকরা: কুত্তা হারামি তর মতো বাঁদর কে কিস করতে আমার বয়েই গেছে।
মিষ্টি এবার হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না লজ্জায় এদের পাশ কাটিয়ে ঘরের উদ্দেশ্য দিল দৌড়।
শুভ্র বলে উঠলো তাদের জন্য আমার রোমান্টিক মূহূর্ত টাই ভেস্তে গেল। তরা আর মানুষ হলি না। এই বলে কোন রকম ওদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল।
রুদ্র: যা বাবা এরা চলে গেল।
ইকরা: সব তর জন্য,,,,,শালা আন রোমান্টিক। এই বলে ইকরা ও চলে গেল।
সকালে……….
বাড়িতে বিভিন্ন রকমের রান্না হচ্ছে। এবং বাড়ি ঘর সাজানো হচ্ছে আজ বাদে কাল আশা চৌধুরী আর আরমান চৌধুরীর বিবাহ বার্ষিকী পালন করা হবে।
এইবার একটু বড় করেই হবে। বাড়ির চারিদিকে ফুলের গন্ধে মম করছে কারণ কাঁচা ফুল দিয়েই বাড়িটি সাজানো হচ্ছে। শুভ্র শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে সিরি বেয়ে নিচে নামছে। আর ইকরা আর রুদ্র সারা বাড়িতে দৌড়াচ্ছে যা ওদের প্রতিদিনের কাজ। একটা না একটা নিয়েই ওদের ঝগড়া লেগেই থাকে।
মিষ্টি ফুল পেয়ে দিন দুনিয়া ভুলে গেছে ।
শুভ্র বলে উঠলো মা আমি এয়ার পোর্টে যাচ্ছি।
আশা চৌধুরী বলে উঠলো তর যাওয়ার দরকার নেই তর বাবাকে পাঠিয়ে দিয়েছি ওদের আনতে।
শুভ্র: কখন,,,,,ক‌ই আমাকে কিছু বললেন না তো। বাবাকে শুধু শুধু কষ্ট করে পাঠালে কেন।
আশা চৌধুরী: হয়েছে তর আর পাকামো করতে হবে না। ওদিকটায় যাই গিয়ে দেখি সাজানো ডেকুরেশন সবকিছু ঠিক টাক হচ্ছে কি না। পারলে তুই ও একটু হাত লাগা ওদের সাথে।
শুভ্র: আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর শুভ্র গিয়ে ফুল নিয়ে সাজানো শুরু করে হঠাৎ শুভ্র কে কেউ একজন জরিয়ে ধরলো। শুভ্র মিষ্টি ভেবে মুচকি হাসে তারপর পেছনে তাকিয়ে দেখে এটা দিশা। তারপর শুভ্র দিশাকে এক ঝটকায় ছাড়িয়ে বলে ,,,,,
শুভ্র: দিশা কখন এলি,,,,,
দিশা: এইমাত্র কেন তুই খুশি সস নি। এভাবে মুখটা চুপসে রেখেছিস কেন।
শুভ্র: তুই এভাবে বলছিস কেন খুশি না হোওয়ার কি আছে এতে। হঠাৎ এভাবে জরিয়ে ধরায় ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আচ্ছা যাই হোক অনেক টা জার্নি করেছিস ফ্রেস হয়ে আয় তারপর গল্প করছি।
দিশা: আচ্ছা ঠিক আছে এই বলে চলে যেতে নিলে শুভ্র বলে উঠে,,,,,,,,,,,
শুভ্র: আর এভাবে হুট করেই জরিয়ে ধরি না। এটা আমার অসহ্য লাগে।
দিশা শুভ্র দিকে কপাল কুঁচকে কিছু বলতে গিয়েও বললো না কারণ সে এখন ক্লান্ত একটু বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। শুধু মাথা নাড়িয়ে চলে গেল।
এদিকে মিষ্টি সব কিছু দেখে দাঁতে কটমট করছে। শুভ্র দুহাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে মিষ্টির জ্বেলাস হওয়া মুখটা বার বার দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। মিষ্টি শুভ্রর মুখে একটি ফুল দিয়ে ডিল ছুড়ে সেখান থেকে চলে গেল।
আরেকদিকে………
রুদ্র দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ ইশার সাথে ধাক্কা খায়।ইশা ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নিলে রুদ্র ওকে ধরে ফেলে। ইকরা ওদের কে এভাবে দেখে হা হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *