ভালোবাসি যে তোমায় – ইসরাত জাহান ইকরা । পার্ট: 13

বিনোদন

ভালোবাসি যে তোমায়

– ইসরাত জাহান ইকরা

এক মূহুর্তের মাঝেই কতো কিছু পাল্টে গেল। এই দিশা আর ইশা এসেই সবকিছু এলোমেলো করে দিল। মিষ্টি বুকের মাঝে চাপা কষ্ট নিয়ে ফ্লোরে বসে কাঁদছে। তখনি ইকরা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মিষ্টির কাছে আসলো ।ইকরাকে আসতে দেখে মিষ্টির চোখের পানি মুছে ফেললো। ইকরা এসেই মিষ্টি কে টেনে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিল। তখনি ইকরা বলে উঠলো,,,,,
ইকরা: মিষ্টি এসব কি শুনছি আমি।
মিষ্টি: কি শুনেছিস তুই ( না জানার ভান ধরে)
ইকরা: জেনে ও না জানার ভান ধরার মানে টা কি মিষ্টি। তুই জানিস শুভ্র ভাই পাগলের মত কাঁদছে। আজ পর্যন্ত কোন ছেলেকে আমি এভাবে কাঁদতে দেখিনি। এবার বুঝ একটা মানুষ তকে কতোটা ভালোবাসে। আর তুইও তো শুভ্র ভাইকে খুব ভালোবাসিস।‌ হঠাৎ এক মূহুর্তের মধ্যে কি হয়ে গেল তর।
মিষ্টি: ইকরা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না তুই কি বলতে চাইছিস।
ইকরা: বুঝতে পারছিস না নাকি বুঝতে চাইছিস না কোনটা। মিষ্টি আমি কিন্তু বলে দিচ্ছি এই পর্যন্ত আমি কিন্তু তর কাছে কিছুই লুকোইনি। তুই আজ ছিঃ। আমি কিন্তু বলে দিচ্ছি আমার কাছে যদি না বলিস তাহলে আমি ও তর সাথে কথা বলবো না।
মিষ্টি: যা ইচ্ছা কর আমার তাতে যায় আসে না।
ইকরা: আমার কছম দিচ্ছি তকে বলতেই হবে ( মিষ্টির হাত ইকরার মাথায় রেখে)
মিষ্টি: ইকরা এটা কি করলি তুই। তবে এটুকুই জেনে রাখ আমি প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।
ইকরা: এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে কি করবি । আমি কিন্তু সব জানি মিষ্টি আজো আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছি । শুধু দেখছিলাম আমার চাইতে ওদের দাম তর কাছে বেশি কি না।
মিষ্টি এবার ইকরা কে জরিয়ে ধরে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠলো।
মিষ্টি: আমি কি করবো ইকরা ওই দিশা আর ইশা (ওখানের সব ঘটনা বলে দিল)
ইকরা: আমি জানতাম এরাই তকে কিছু বলেছে।
মিষ্টি: জানি মানে,,,,তুই তো লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছি লি বললি( কপাল কুঁচকে)
ইকরা: এটা তো আমি অজান্তেই এমনি বললাম যাতে তুই সবকিছু বলে দিস।
মিষ্টি: ছিঃ ইকরা। আমি আজ পর্যন্ত কারো দেওয়া কথা ভঙ্গ করি নাই। আজ তর ( বাকিটা বলার আগেই ইকরা বলে উঠলো)
ইকরা: ওরে আমার ভালো মানুষী রে। তুই কারো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিসনি গাধা। তকে তো বলেছিল কাক পক্ষি ও যাতে না জানতে পারে। মানুষ কে তো বলা নিষেধ করে নি।
মিষ্টি ইকরা কে জরিয়ে ধরে বলে উঠলো তুই পারিস রে ইকু। আমার সব মনের কথা ধরে ফেলতে পারিস। তখনি দরজার পাশ থেকে শুভ্র বলে উঠলো বাহ্ খুব ভালো মিস মাহিয়া মাসফি মিষ্টি। শুভ্রর চোখ আগুনের মতো লাল হয়ে আছে । যেন এখনি সেই আগুন দিয়ে সবকিছু পুড়িয়ে দিবে। ইকরা পাশ থেকে বলে উঠলো শুভ্র ভাই দিশা আর ইশা কে আমি দেখে নিচ্ছি। এই বলে ইকরা শুভ্রর পাশ কাটিয়ে দিশার ঘরের উদ্দেশ্য গেল।
ইকরা চলে যেতেই শুভ্র ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিল। এদিকে মিষ্টি ভয়ে কাঁপতে লাগলো।
শুভ্র: এই দিশা কে তো আমি পরে দেখে নিচ্ছি আগে ‌তর ব্যাবস্তা টা করে নেই।( এই বলে শুভ্র বাকা হাসলো)
মিষ্টি: ভা ভাইয়া আ আমি কিছু করি নি। আমাকে যেতে দিন। ( ভয়ে কাঁপতে লাগলো)
শুভ্র: যেতে দিব কি হ্যা। তুই কার না কার কথা শোনে আমার ভালোবাসার অবহেলা করেছিস। আমার ভালোবাসা টা কি তর কাছে অভিনয় মনে হয় ( রেগে চিল্লিয়ে)
শুভ্রর চিৎকারে মিষ্টি কেঁপে উঠলো।
শুভ্র: খুব বাড় বেড়েছিস তাই না। এখন থেকে আর এই মূহুর্ত থেকে তুই আমায় ভালোবাসিস নাকি না বাসিস এতে আমার কোন যায় আসে না। তুই শুধুমাত্র শুভ্রর আজ থেকে এটাই ফাইনাল। তর এমন ব্যাবস্তা আজ করবো যাতে আমার থেকে কোনদিন দূরে না যেতে পারিস। ড্রয়িং রুমে সবাই কে ডেকেছি সবার সামনে যদি আমি তকে বিয়ে না করছি তাহলে আমার নাম শুভ্র চৌধুরী নয়। (এই বলে শুভ্র মিষ্টি কে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো) এদিকে মিষ্টির ভয়ে অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল।
আরেকদিকে………
উফফফ আজকের অপমান টা সেই ছিল আপু। আমি হলে চুলের মুঠি ধরে কয়েক ঘা লাগিয়ে দিলাম ( ইশা)
খেলা মাত্রই শুরু করলাম। এখন শুধু দেখে যা( দিশা)
খেলাটা খুব তাড়াতাড়িই শেষ করবো আমি মিস দিশা ( ইকরা)
দিশা: মিষ্টি তুই এখানে। আর আমার সাথে এভাবে কথা বলার সাহস হলো কি করে। তখনকার কথা কি ভুলে গেছিস।
ইকরা: ওই গলা নিচু। বাই দা ওয়ে আমি ইকরা,, আমি মিষ্টি না যে তর মতো দুই টাকার মেয়েকে ভয় পাবো।
ইশা: ওহ্ তুই তো দুই নাম্বার চরিত্র হীন মেয়ে। রুদ্রর সাথে তো সব সময় ফুর্তি করার ধান্দায় থাকিস।
ইকরা: just shut up. ছিঃ তদের মুখের ভাষা ঠিক কর নয়তো মুখে একটা দাঁত ও আস্তো থাকবে না।
দিশা: বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলে কিছুই তো জানো না দেখছি। তোমাদের দুই বোনকে কি মনে করো হ্যা যা খুশি তাই করবে। আয়নায় কখনো নিজেদের চেহেরা দেখেছো কখনো। কোন দিক দিয়ে যাও তোমরা ।
ইকরা: নিজেকে বড় দাবি করিস। আমি তো তকে মানুষ তো দূরে থাক জানোয়ারো মনে করি না। তরা এক একটা শাকচুন্নী। বাই দা ওয়ে এই ময়দা মার্কা রুপ নিয়ে তো দেখছি তদের অনেক অহংকার। যাই হোক এই আদা ময়দা দিয়ে ও আমাদের সমান হতে পারবি না।
দিশা: নিজের লিমিট ছাড়িয়ে যেও না। আর আমার সাথে লাগতে এসো না তা নাহলে এর ফল ভয়াবহ হতে পারে। তোমার বোন কে তো আমি দেখে নিচ্ছি।
ইকরা; আমার বোন সৎ মানুষ হতে পারে তাই বলে ভাববেন না যে আমার বোন দূর্বল। আপনি আপনার লিমিটের মধ্যে থাকুন নয়লে আপনার যে শুভ্র ভাই কি করবে সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।
দিশা: কি শুভ্র কে সব বলে দিয়েছে। তোমার বোন কে তো আমি।
ইকরা : এখন হয়তো নিচে আমার বোনের সাথে শুভ্র ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর আমার বোন কে কি করবেন আপনি। মিষ্টির সামনে গিয়ে দেখুন খাপ্পড়িয়ে আপনার দাঁত ফেলে দিবে শুভ্র ভাই।
ইকরার কথা শুনে ঢোক গিললো দিশা।
দিশা: তোমাদের দেখে নিব আমি ( রেগে)
ইকরা কিছু বলতে যাবে তখনি চোখ যায় ড্রেসিং টেবিলের উপর। ইকরা ড্রেসিং টেবিলে একটা ইয়া বড় মেকআপ বক্স রাখা ছিল সেটা হাতে নিয়ে মেঝেতে ছুড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলে।
সাথে সাথে দিশা চেঁচিয়ে উঠে।
ইকরা; খুব তো রুপের অহংকার করছিলি। এখন দেখি কি দিয়ে রুপের অহংকার করিস। যত্তসব থার্ড ক্লাস মেয়ে কোথাকার। এই বলে চলে গেল ইকরা্।
ইকরা এগুলো কি বললো সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেল দিশার। তাই বিষয় টা বুঝতে ড্রয়িং রুমে গেল দিশা।
ড্রয়িং রুমে……….
সবাই চুপচাপ বসে আছে একটু আগে শুভ্র যা বললো তাতে সবাই শকড্।
একটু আগের ঘটনা……
আরিফ চৌধুরী: হঠাৎ এই সময় শুভ্র আমাদের ডেকে পাঠালো কেন। কি ব্যাপার আমরা কিছুই তো বুঝতে পারছি না।
আশা চৌধুরী: কি জেন জানাবে আমাদের বললো। কি জানি হাঠৎ কি না কি করে বসে।
তখনি পিছন থেকে শুভ্র এসে বললো তোমাদের সবার প্রশ্নের উত্তর এখুনি পেয়ে যাবে। এই বলে শুভ্র মিষ্টি কে টানতে টানতে সোফায় এনে বসিয়ে দিল। মিষ্টির একদিকে ভয় আরেকদিকে লজ্জায় ঘিরে ধরল।
শুভ্র বললো আমি এই মুহূর্তে মিষ্টি কে বিয়ে করতে চাই তাতে যদি তোমরা আপত্তি করো তাহলে আজকেই আমার শেষ দিন ( মাথায় রিভেলবার ঠেকিয়ে)। পিছন থেকে রুদ্র বলে উঠলো ভাইয়া দিন না এখন রাত। সাথে সাথে শুভ্র রুদ্র কে চিমটি কাটে।
বর্তমানে……
সব নিরবতা ভেঙ্গে আরিফ চৌধুরী আর আর চৌধুরী এক সাথে হেসে উঠলো। এদের হাসি দেখে শুভ্র বলে উঠলো।
শুভ্র: তোমাদের হাসি পাচ্ছে। এখন কিন্তু সত্যি সত্যি মাথায় গুলি চালিয়ে দিব বলে দিলাম।
তারপর আয়েশা চৌধুরী শুভ্রর কান মলা দিয়ে বলে এই খেলনার বন্দুক নামিয়ে ভয় দেখানো শেষ হলে এবার আংটি পরানো শুরু করো। শুভ্র অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে এতোটা সহজে মেনে নিবে ভাবতে ও পারে নি।
আশা চৌধুরী: হা করে দেখছিস কি। আমরা আগেই প্লেন করে রেখেছি তর সাথে মিষ্টির বিয়ে দিয়ে দিব। বিদেশ থেকে আসলেই। কিন্তু আমরা অপেক্ষায় ছিলাম তদের কাকে পছন্দ হয় সেটা দেখার জন্য।
মিষ্টি এভাবে তার প্রিয় মানুষটাকে এতো তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবে কল্পনার বাহিরে ছিল। সবশেষে ওদের এনগেজমেন্ট হয়ে গেল। এবং আগামী শুক্রবার বিয়ের তারিখ ঠিক করা হলো। বাড়ির চারিদিকে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
ওদিকে দিশার মনে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন।
চলবে 💕💕💕💕

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *