ভালোবাসি যে তোমায় – ইসরাত জাহান ইকরা । পার্ট: ১, ২, ৩

বিনোদন

আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন,,হাত ছারুন বলছি নয়লে চিৎকার শুরু করে দিব কিন্তু (মিষ্টি)
ওহ্ রিয়েলি,,,,, তাহলে দে চিৎকার দেখি কে আমার হাত থেকে বাঁচায়,,,,,,বলেই বাঁকা হাসলো (শুভ্র)
নাহ এই বেটার সাথে এভাবে পারা যাবে না(মনে মনে)
প্লীজ শুভ্র ভাইয়া এই বারের মতো মাফ করে দেন ,,,এই কান ধরছি আর ভুল হবে না পিলিজ,,নেকা কান্না করে (মিষ্টি)
ভুল যখন করেছিস তবে শাস্তি পেতেই হবে,,,,এই নেকা কান্না করে আমার মন গলবে না (শুভ্র)
শাস্তি স্বরুপ এ অন্ধকার ঘরে আমাকে ফেলে যাবেন না প্লিজ,,, আমার অনেক ভুতের ভয় হয় । ছলছল চোখে (মিষ্টি)
এই শুভ্র এইসব ফালতু কাজ করে সময় নষ্ট করে,,, এখন তো আমি মিষ্টি খাবো,,,আর এটাই হবে তর শাস্তি (শুভ্র)
মানেএএএএএএএএ(মিষ্টি)
দাঁড়া দেখাচ্ছি,,,,,,,,,, উমমমমমমমমমমম্মাহহহহ (শুভ্র)
নায়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়(মিষ্টি)

সকাল ১০টা
ইকরা: বাবারে আমার ঘুমের বারোটা বাজাই দিল রে,,(কানে হাত দিয়ে)
উঠ উঠ বলছি শাকচুন্নী,,,,,
মিষ্টি: আমি এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম ওহ্ thank God
ইকরা: না তুমি স্বপ্ন দেখোনি,,, প্রেমিকের সাথে টাংকি মারছিলা,,,,,,বাই দ‍্যা রাস্তা তোমার চিৎকার দেওয়ার কারণ টা কি জানতে পারি।
( মিষ্টি তারপর স্বপ্নের সব ঘটনা খুলে বললো)
ইকরা: (হাসতে হাসতে) ওহ্ তাহলে এই ব‍্যাপার,,

এমন সময় আয়েশা চৌধুরী আসলো,,,
আয়েশা চৌধুরী: এই যে দুই মহারানী রা,,,কয়টা বাজে খবর আছে,,, তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে এসো ,,, তোমাদের আব্বু কখন থেকে অপেক্ষা করছে।

ইকরা:: মিষ্টি:: আচ্ছা যাচ্ছি আম্মু,,, উম্মাহ।
আয়েশা চৌধুরী: হয়েছে হয়েছে যাও তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে আসো,,,,এই বলে চলে গেল।

তাহলে চলুন এবার পরিচয় টা দিয়ে দেই,,,এই হলো আমাদের গল্পের দুই নায়িকা মিষ্টি আর ইকরা,,, এদের পুরো নাম মাহিয়া মাসফি মিষ্টি আর ইসরাত জাহান ইকরা,,,,,,এরা হলো আপন যমজ বোন,,,, বোন বললে
ভুল হবে বলতে পারি বেষ্ট ফ্রেন্ড। বিজনেস ম‍্যান আরিফ চৌধুরী এবং আয়েশা চৌধুরীর দুই মাত্র মেয়ে,, খুবই আদরের,,,,,, এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে দুজন,,,, ইকরা এবং মিষ্টির গায়ের রং ফর্সা,, চোখ গুলো টানা টানা,,, খুব লম্বা চুল মায়াবী চেহারা বলতে গেলে অসাধারণ দেখতে,,,এই যা অনেক কিছু বলে ফেলেছি এবার গল্পে ফেরা যাক,,, বাকিটা আস্তে আস্তে জেনে যাবেন।

খাবার টেবিলে,,,,,

আরিফ চৌধুরী: এইতো আমার লক্ষী মেয়েরা চলে এসেছে,,,, ওহ্ হ‍্যা তোমাদেরকে তো বলাই হয়নি,,,,কাল আমারা তোমাদের দেখার বাসায় যাচ্ছি রেডি থেকো আর ব‍্যাগ প‍্যাক করে নিও।

মিষ্টি:::ইকরা: কালকে,,,,, কালকে কেনো যাচ্ছি বাবা।

আরিফ চৌধুরী: কালকে শুভ্র বিদেশ থেকে আসছে,,,, এবং তোমাদের জেঠা জেঠির সামনে বিবাহ বার্ষিকী,,,তাই আমরা ওখানে বেড়াতে যাচ্ছি,,,,
আচ্ছা আমি যাই মামনি,,,, আমার একটু কাজ আছে।
বলেই উঠে চলে গেল।

এইদিকে মিষ্টির গলায় খাবার আটকে গেছে,,,,,
আয়েশা চৌধুরী: আহ্ আস্তে খাবি তো,,,দেখি এই নে পানি,,,আর হা কর আমি খাইয়ে দিচ্ছি।

এদিকে ইকরা মিটিমিটি হাসছে,,,তা দেখে মিষ্টি চোখ রাঙানি দিচ্ছে,,,,

ঘরে,,,,,,,,,

মিষ্টি এসে ধপাস করে বসে গেল,,,,,,,,

ইকরা: বহুত কষ্টে তখন হাঁসি চাপিয়ে রেখেছি,,, এখন ইচ্ছে মত হেসে নিই।এই বলে হাসতে লাগল।

মিষ্টি: এসেই দাঁত কেলানি শুরু হয়ে গেল,, মিনমিন করে।

ইকরা: কি বললি,,,যাই হোক তর চিন্তা কর,,,তর কথা ভেবে হাসবো না কাঁদবো ঠিক বুঝতে পারছি না,,,যাই হোক শুভ্র ভাইয়ের রোমান্টিক অত‍্যাচারের জন্য রেডি হো,,,,।

মিষ্টি: আর তুই রুদ্রর কেলানি আর জ্বালানির জন্য রেডি হো। বলেই চোখ টিপ দিল

ইকরা: আমি কি লুঙ্গি ডান্স করবো নাকি,,,,বলেই বেঙ্গলি কাটলো

পরের দিন সকালে,,,,,,,,,,,,,,,
মিষ্টি ইকরা দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলো আরমান চৌধুরী কে,,,,,, কেমন আছো জেঠু।
আরমান চৌধুরী: এইতো ভালো আছি আম্মু,,,,, তোমরা কেমন আছো।
মিষ্টি:: ইকরা: ভালো জেঠু,,,,,,,,,
আশা চৌধুরী: এসেই জেঠুর সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেছে এদিকে জেঠিকে ভুলে গেছে,,, অভিমানী সূরে।
তারপর ইকরা মিষ্টি জেঠিকে গিয়ে জরিয়ে ধরলো,,,,,
আশা চৌধুরী: হয়েছে আর ভাব জমাতে হবে না,,, মুচকি হেসে,,,,,,,শুন আমার একটা কাজ করে দে ,,,,
ইকরা:: মিষ্টি:: কি কাজ বলো জেঠি।
আশা চৌধুরী: ইকরা তুই রুদ্রর কফি টা দিয়ে আয়,,,আর মিষ্টি তুই শুভ্রর কফিটা দিয়ে আয়,,,,,
মিষ্টি: আচ্ছা ঠিক আছে,,,যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় ( মনে মনে)
ইকরা মিষ্টির অবস্থা দেখে মনে মনে হাসছে,,,,, তারপর ইকরা মিষ্টি র কানেকানে বললো,,,, দাঁড়িয়ে আছিস কেন যা,,,নয়লে কফি ঠান্ডা হয়ে গেলে ডাবল শাস্তি পাবি,,এটা বলে ইকরা রুদ্রর ঘরের দিকে পা বাড়ালো আর মিষ্টি ভয়ে ভয়ে শুভ্রর।
আরমান চৌধুরী: তা আরিফ আসতে কোন সমস্যা হয় নি তো,,,,,,।
আরিফ চৌধুরী: না ভাইজান কোন সমস্যা হয় নি,,,,,।
আশা চৌধুরী: তোমাদের আরো আগেই আসতে বলে ছিলাম,,, কিন্তু কে শুনে কার কথা।
আয়েশা চৌধুরী: রাগ করছো কেন ভাবী ,,,,,,,, এবার অনেক দিন থাকবো যাও কথা দিলাম,,,,।
আশা চৌধুরী: হয়েছে এতো দূর থেকে এসেছো ফ্রেস হয়ে আসো,,,, তারপর গল্প করছি।
( তারপর আয়েশা চৌধুরী আর আরিফ চৌধুরী ফ্রেস হতে গেল)
তাহলে চলুন এবার নায়কের পরিচয় টা দিয়ে দেই,,,, এতোক্ষণে নিশ্চয় বুঝে ফেলেছেন আমাদের গল্পের নায়ক শুভ্র আর রুদ্র,,,,,,,, আরমান চৌধুরী আর আশা চৌধুরীর দুই ছেলে শুভ্র আর রুদ্র,,, রুদ্রের বড় ভাই শুভ্র,,,,,শুভ্র এবার বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসেছে,,,,,আর রুদ্র ইকরা মিষ্টির সমবয়সী,,,, শুভ্রর গায়ের রং ফর্সা,,,, মুখে চাপ দাঁড়ি,,,হাসলে গালে টোল পরে,,,,, দেখতে অসাধারন বলতে গেলে শুভ্রকে এক দেখায় সব মেয়ে প্রেমে পড়ে যাবে,,, এবং রুদ্রর গায়ের রং ফর্সা,,, মুখে চাপ দাঁড়ি,, ঠোঁটের নিচে একটা তিল আছে যা দেখে সব মেয়েরা ফিদা,,, তবে খুব রাগী।
তাহলে এবার গল্পে ফেরা যাক,,,,,,
এদিকে মিষ্টি ভয়ে ভয়ে শুভ্রর ঘরের দিকে উঁকি ঝুঁকি মারছে,,,,,,,,,
শুভ্র: উঁকি মারার কী আছে সোজা ঘরের ভিতরে আসলেই তো পারিস,,,,লেপটপে চোখ রেখে।
মিষ্টি: এই বেটা জানালো কী করে,,, হারামজাদার দেখছি চিলের চোখ।
তবু ও মিষ্টি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে দেখে,,,,শুভ্র এক টানে ঘরে ভিতর নিয়ে আসলো।।
মিষ্টি: এটা কী করলেন,,,,এখনি তো কফি টা পড়ে যেত,,,,,,,
শুভ্র: কফি তো আর কফি রাখি না ,,, পুরো ঠান্ডা করে ফেলেছিস,,,,,এটা এখন তুই খা,,,।
মিষ্টি: আসলে ভাইয়া,,,, বুঝতে পারিনি সরিইইইইইইই,,,
শুভ্র: এখন সরি বলে কোন লাভ নেই,,,,এর শাস্তি তকে পেতে হবে।।।
এই বলে শুভ্র মিষ্টির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে,,,,শুভ্র যত এগুচ্ছে আর মিষ্টি তত পিছোচ্ছে,,,এক পর্যায়ে মিষ্টি দেয়ালের সাথে আটকে গেছে,,আর শুভ্র মিষ্টির একেবারে কাছে চলে গেছে।
মিষ্টি সুযোগ বুঝে শুভ্রে ধাক্কা দিয়ে উরাধুরা দৌড়।
এই দেখে শুভ্র হাসতে হাসতে বিছানায় গরাগরি খাচ্ছে।
শুভ্র: আমার মিষ্টি পরিটা আগের চাইতে আরো দ্বিগুন মিষ্টি হয়ে গেছে,,,,ঠোঁট কামড়ে।
আরেকদিকে,,,,,
ইকরা এসেই রুদ্রের কানের কাছে জোরে চিৎকার দিল।
এক লাফে উঠে রুদ্র বলে কে কে,,,,,,,,
ইকরা: হারামি,,,,কয়টা বাজে খেয়াল আছে,,, এখনো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস,,,,তাই বারোটা বাজাই দিলাম,।
রুদ্র: শাকচুন্নী,,,,, কানের কাছে ছাগলের মত ম্যা ম্যা করার আর কোন মানুষ পাইলি না। বের হো আমার ঘর থেকে,,,,,
ইকরা: বয়েই গেছে আমার তর ঘরে আসতে,,,,এই নে তর কফি ,,,,জেঠিমা বললো বলে আসলাম নাহলে তর মতো কালা হাতির সাথে ঝগড়া করার আমার কোন টাইম,নাই,,,।
রুদ্র: কী আমি কালা হাতি,,,, তবে রে।
ইকরা ভেঙ্গচি কেটে দিল দৌড়,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
রুদ্র শাওয়ার নিতে বাথরুমে গেল,,,,
রুদ্র: এই যা,,,, আমার বাথরুমে টিউব টা নষ্ট হয়ে গেল,, এখন কী করি,,, সমস্যা নাই আজ অন্য ঘরে থেকে শাওয়ার নিয়ে আসি,,,, এই বলে ইকরার রুমে গেল শাওয়ার নিতে,,,, তখন ঘটলো আরেক বিপত্তি,,, ভুল করে কাপর আনতে ভুলে গেছে,,,,এই যা এখন কি পড়ে বের হবে।
এইদিকে সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে,,,,,,
ইকরা: চলো সবাই আজকে বিকেলে ঘুরতে যাই কেমন হবে,,,,
মিষ্টি: গুড আইডিয়া,,,,, আমি ও তাই ভাবছিলাম,,কি বলো জেঠু,,,,
আরিফ চৌধুরী: তোমারা ছোটরা যাও ,,,,,,আমরা বড়রা বাড়িতে থাকি কেমন,,,,।
ইকরা::: মিষ্টি:: প্লীজ তোমারা ও চলো,,,প্লীজ জেঠি তুমি কিছু বলো।
আশা চৌধুরী: হ্যা মা তোমরা যাও ,,,,,ছেলেটা বিদেশ থেকে এসেছে শুভ্র তুই রুদ্র ইকরা মিষ্টি কে নিয়ে ঘুরে আয় বিকেলে।
শুভ্র: আচ্ছা আম্মু,,,,এই বলে মিষ্টি কে একটা চোখ মারলো,,,,,।
তখনি ইকরা চিৎকার দিল,,,,সবাই বিষয় টা বোঝার জন্য ইকরার দিকে তাকালো,,,,।
দেখলো ইকরা রুদ্রর পরনের তোয়ালে ধরে টানছে আর বলছে,,,,,, তুই আমার তোয়াল পরলি কেন এখনি খুল বলছি,,,এই বলে আরো জোরে টানা শুরু করলো।
সবাই এটা দেখে হতবাক,,,,,
রুদ্র: আরে করছিস কি ছাড় বলছি আমি বিপদে পড়ে এটা পড়েছি,,,,, প্লীজ বোঝার চেষ্টা কর,,ছলছল চোখে।
ইকরা : আমি এতো কিছু বুঝি না তখন না ঘর থেকে বের করে দিছিলি,,,,,।
রুদ্র: সরি বাপ,,,, এখন ছাড় নয়লে এখনি তর নামে আমি পুরুষ নির্যাতন মামলা দিব,,,।
ইকরা; যা ইচ্ছা তা কর ,,,আগে আমার তোয়াল খোল।
রুদ্র: এভাবে সবার সামনে,,,,ছলছল চোখে,,,
তারপর ইকরা জিভে কামড় দিল,,,, এতোক্ষণ এটা কি করছিলো প্রতিশোধের নেশায় খেয়াল ছিল না। তারপর ইকরা আর রুদ্র লজ্জায় যার যার রুমে দিল দৌড়। তখন রুদ্র ইকরার তোয়াল পড়েই বের হয়ে ছিল কিন্তু বেচারা রুদ্র জানতো না এমন হবে।
এদের এমন বাচ্চা মি ঝগড়া দেখে সবাই জোরে হেসে দিল,,,।
ইকরা দৌড়ে এসে ধপাস করে বিছানায় শুয়ে পরল,,, তারপর মনে মনে বললো,,,,ছি এটা আমি সবার সামনে কী করলাম আল্লাহ,,,,, এখন লজ্জায় ওদের সামনে মুখ দেখাবো কী করে,,,,যাই হোক ব্যাপার টা বেশি বেশি হয়ে গেছে এখন রুদ্র কে সরি বলে আসি,,,আর রুদ্র তো জানে না আজকে বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানিং হয়েছে ,,,,,ভালোই হলো এই অজুহাতে বলে ,,,, আল্লাহ জানি না কী আছে কপালে। ( ইকরা)
তখনি মিষ্টি হাসতে হাসতে ইকরার সামনে বসলো আর বললো ইকরা এটা তুই কি করলি শেষ মেষ পুরুষ নির্যাতন,,,, হেসে গড়াগড়ি খাওয়া অবস্থা( মিষ্টি)
ইকরা: দেখ মিষ্টি ক্ষেপাবি না বলে দিলাম,,, এমনিতেই এই ব্যাপারটার জন্য আমার ইয়ে হচ্ছে।
মিষ্টি কিছু বলবে তখনি আশা চৌধুরী মিষ্টির কাছে আসলো আর বললো,,,,,।
আশা চৌধুরী: মিষ্টি মা,,,, আমি এখন তোমার আম্মুর সাথে এক জায়গায় যাচ্ছি,,,তোমরা যখন ঘুরতে যাও আশার সময় শুভ্র কে বলো এই কাগজে যা যা লিখে দিয়েছি সব কিছু আনতে,,, ঠিক আছে,,,, আমিই ওকে বলতাম কিন্তু ও শাওয়ার নিতে গেছে আর এদিকে আমার দেরি হয়ে যাবে বলে তোমাকে বলে গেলাম,,,,( এই বলে আশা চৌধুরী বেড়িয়ে গেল)
মিষ্টি: যা বাবা,,,,,এর চেয়ে ভালো হতো যদি আমায় যমের বাড়ি পাঠিয়ে দিত।( তখনি মিষ্টির মাথায় একটা প্ল্যান চলে এলো)
মিষ্টি: এই ইকরা তুই যা না ,,,,, তুই গিয়ে শুভ্র ভাইকে বলে আয় প্লীজ বোনু।
ইকরা: বয়েই গেছে আমার ,,,,আর তাছাড়া আমি রুদ্র কে গিয়ে সরি বলে আসি,,,আর এটা ও ওকে জানানো দরকার আজকে আমারা ঘুরতে যাবো,,,,এখন আমি যাই,,,,এই বলে যেতে নিলে মিষ্টি ওকে আটকায়।
মিষ্টি: দেখ ইকু এখন রুদ্র তর উপর ক্ষেপে আছে ,,,তুই গেলে কিন্তু তকে ছেড়ে দিবে না,,,,তার চেয়ে ভালো হবে তর কাজ আমি করি আর তুই আমার কাজ। কি বলিস।
ইকরা : কথা টা মন্দ বলিস নি,,,,দে লিষ্ট টা আমায় দে,,,
( এই বলে যার যার গন্তব্যে চলে গেল)
এইদিকে,,,,,
মিষ্টি: রুদ্র আসবো,,,,,,,,,, আসলে কিছু কথা বলার ছিল।
রুদ্র: আই আই ভিতরে আয়,,,,এই বলে শয়তানি হাসি দিল,,,,
মিষ্টি: আসলে,,,(,এটা বলেই দেখলো রুদ্র দড়জা আটকাচ্ছে),,,,, কি হলো দরজা আটকাচ্ছিস কেন,,
রুদ্র: বাবা ম্যাডাম দেখছি এর মধ্যেই সব কিছু ভুলে গেছে ,,,, ওকে নো প্রোবলেম আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি,,।( এই বলে মিষ্টির দিকে এগোতে লাগলো)
মিষ্টি: কী ব্যাপার রুদ্র আমার দিকে এভাবে এগিয়ে আসছে কেন,,,, তারপর মনে হলো মিষ্টির আর ইকরা তো জমজ বোন তাই এই হারামজাদা আমাকে ইকরা ভাবছে,,,,( মনে মনে)
এদিকে রুদ্র এক পর্যায়ে মিষ্টি একেবারে কাছে চলে গেছে,,,গিয়ে দেয়ালের সাথে হাত চেপে ধরলো,,,
মিষ্টি: আরে কালা হাতি আমি মিষ্টি ,,,,ছাড় বলছি আমায়,,,, মিষ্টির এই কথা শুনে রুদ্র আকাশ থেকে পড়ল,,,,, তারপর রুদ্র বললো কিহ তুই মিষ্টি, কোনো ভাবে আমার হাত থেকে বাঁচার জন্য বলছিস না তো।
মিষ্টি: আরে ধুর এটা ইকরা হলে এতোক্ষণে ১০০ গালি আর ৫ টা খামছি দিয়ে দৌড় দিতো,,,,, বাই দ্যা ওয়ে যেটা বলতে এসেছিলাম সেটা হলো আজ আমারা ঘুরতে যাচ্ছি বিকেলে ,,,,রেডি থাকিস,,,,আর ইকুর তরফ থেকে সরি,,,,এই বলে মিষ্টি চলে গেল,,।
রুদ্র: ঠিকিই তো,,,,এর শাস্তি তুই আজ বিকেলে পাবি ইকরা(মনে মনে)
আরেকদিকে
ইকরা দৌড়ে শুভ্র ঘরে গেল ,,,, তারপর ঘটলো আরেক বিপত্তি দৌড়ের তাল সামলাতে না পেরে শুভ্রর উপর গিয়ে পড়লো,,।
শুভ্র বাথরুম থেকে চুল মুছতে মুছতে বের হচ্ছিল তখন হঠাৎ করে শভ্রর উপর কী যেন পরলো,,,ঘটনাটা এতো তাড়াতাড়িই ঘটলো যে শুভ্র তাল সামলাতে পারেনি সোজা বিছানায় গিয়ে পড়লো।
শুভ্র যা দেখলো তারপর তার অজান্তেই ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল,,,,,।
শুভ্র: তা মহারানীর কী আজ রোমান্স করার ইচ্ছা হয়েছিল তা আমাকে বলল্লেই তো পারতো,,,এটা বলে ইকরা আরো জোরে জরিয়ে ধরলো,,,।
ইকরা: শুভ্র ভাই কী করছেন কী ছারুন বলছি,,, আমি মিষ্টি,,,,(পুরো কথা না শুনেই শুভ্র বললো)
শুভ্র: বুঝেছি মিষ্টি দিতে এসেছিস,,,,,,
ইকরা: আরে না,,, প্লীজ শুভ্র ভাইয়া ছাড়ুন আমার কথা টা শুনুন আগে।
শুভ্র: তুই নিজেই আমার কাছে এসেছিস,,, তুই নিজের ইচ্ছায় আসলি আর যাবি আমার ইচ্ছায়,,,,।
ইকরা : আরে না,,,,,হে আল্লাহ এ কোন ঝামেলাই আমায় ফালাইলা,,,,এই কালা হাতি কেন বুঝছে না যে আমি তার ধলা হাতি, না।।।
শুভ্র : কি বললি,,,, আমার সাথে বেয়াদবি করার শাস্তি আরো দ্বিগুন পাবি এখন,,,, তখনি ইকরা জোরে চিৎকার দিয়ে বললো আমি ইকরা।।।।।।।।।।।।
এই শুনে শুভ্র ইকরা কে ছেড়ে দিয়ে,,,,এক ঝটকায় উঠে বসলো,,,,,
শুভ্র: কি তুই মিথ্যা বলছিস,,,, আমার হাত থেকে বাঁচার জন্য তাইতো,,,।
ইকরা : আরে না বাপ থুক্কু ভাই,,,, ভালো করে চেয়ে দেখো আমার ডান গালে তিল আর মিষ্টির বাম গালে তিল,,,,
শুভ্র: হ্যা তাইতো,,,,, তখনি শুভ্র দেখলো মিষ্টি দড়জার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ টিপে হাসছে,,,,শুভ্র ইশারায় ইকরা কে দেখালো,,, এবং ইকরা বুঝলো মিষ্টি ইকরা কে ফাসাইছে,,,,
তা দেখে ইকরার বেশ রাগ হলো এবং শুভ্রর কানে কানে ইকরা কিছু একটা বললো,,, তারপর শুভ্র বললো।
শুভ্র: গুড আইডিয়া শালিকা,,,,,,,, তারপর দুজনেই হাসলো,,,,,,,,,
বিকেলে রুদ্র শুভ্র মিষ্টি ইকরা রোওনা দিল,,,,
আজ মিষ্টি একটা মিষ্টি কালারের গ্ৰাউন পরলো আর ইকরা রানি গোলাপী রঙের,,, দুজনের চুল আজ খোলা,,, দুজনকেই অসাধারণ দেখতে লাগছে,,,, এইদিকে শুভ্র সাদা রঙের শার্ট ,,,মেছিং ঘড়ি এবং পেন্ট,,,হাতা গোটানো,, চুল গুলো জেল দিয়ে স্পাইক করা দেখতে অপূর্ব লাগছে,,,, মিষ্টি আজ বার বার শুভ্র দিকে তাকাচ্ছে,,,আজ প্রথম মিষ্টি শুভ্রকে ভালো করে দেখছে,,,, মিষ্টির মাঝে আজ অজানা এক অনূভুতি বিরাজ করছে,,,,তা শুভ্র তা লখ্য করছে হঠাৎ চোখ মারলো মিষ্টি কে,,,, মিষ্টি লজ্জায় নুইয়ে গেল।
এইদিকে রুদ্র আজ কালো রঙের শার্ট প্যান্ট,,,মেচিং ঘড়ি,,, চুল জেল দিয়ে এক সাইডে স্পাইক করা,,, ঠোঁটের নিচের তিল টা যে যেন আরো সোন্দর্য বেড়ে গেল,,,,তা দেখে ইকরার হা হয়ে গেল আর রুদ্রর ও এইক‌ই অবস্থা,,, কিন্তু ইকরা কে বুঝতে দেইনি,,,।
এক পর্যায়ে তারা পৌঁছে গেল একটা মস্ত বড় পার্কে,,,,,

2 thoughts on “ভালোবাসি যে তোমায় – ইসরাত জাহান ইকরা । পার্ট: ১, ২, ৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *